২৩ বছরে সিলেট জেলায় জলাশয় ও জলাভূমি কমেছে প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং নগরায়ণ বেড়েছে ৩০০ শতাংশ। ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ন্যাচারে’-এ প্রকাশিত গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গত দুই দশকেরও বেশি সময়ে দ্রুত বদলেছে সিলেট।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহির উদ্দিন ও আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক এস এম নজমুল হক।
গবেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করছে না, বরং আকস্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা ও দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে। গবেষণা বলছে, সিলেটে গত ২৩ বছরে দ্রুত বদলে গেছে ভূমির ব্যবহার ও প্রাকৃতিক পরিবেশের চিত্র। একদিকে কমেছে নদী, খাল-বিল, জলাভূমি ও উন্মুক্ত পানি ধারণকারী এলাকা, অন্যদিকে বেড়েছে নগরায়ণ, কংক্রিটের স্থাপনা ও অবকাঠামো। গবেষণায় ২০০০, ২০০৫, ২০১০, ২০১৫, ২০২০ ও ২০২৩ সালের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে সিলেট জেলার ভূমি ব্যবহার ও ভূমি আচ্ছাদনের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে| গবেষণায় গুগল আর্থ ইঞ্জিন, ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইট ডেটা এবং র্যান্ডম ফরেস্ট ক্লাসিফায়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে সিলেটের ভূমিকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়- নগর এলাকা, খালি জমি, জলাশয় ও উদ্ভিদ আচ্ছাদন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সিলেট জেলায় নগর এলাকা প্রায় ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে জলাশয় ও জলাভূমি কমেছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ধ্বংস এবং অপরিকল্পিত নগর বিস্তারের ফলে সিলেটের মতো বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে ঝুঁকি আরো বাড়ছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে সিলেট জেলার মোট ভূমির ৩৪ দশমিক ২৫ শতাংশ ছিল জলাশয় ও পানিপূর্ণ এলাকা। ২০২৩ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশে। অর্থাৎ ২৩ বছরে সিলেট তার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জলাভূমি হারিয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সিলেটের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে জলাশয় কমে যাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ফলে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধারণের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত প্লাবন ভূমিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্বনাথ উপজেলায় জলাশয় কমেছে সবচেয়ে বেশি। সেখানে পানিপূর্ণ এলাকা হ্রাসের হার প্রায় ৯০ শতাংশ। এছাড়া, বিয়ানীবাজার, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও সিলেট সদরেও জলাশয়ের বড় ধরনের সংকোচন দেখা গেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০০০ সালের জলাশয়ের প্রায় ৭ শতাংশ এলাকা ২০২৩ সালের মধ্যে নগর এলাকায় রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জলাশয় খালি জমিতে পরিণত হয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০০০ সালে সিলেট জেলার মোট ভূমির মাত্র ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ ছিল নগর এলাকা। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৪৬ শতাংশে। বিশেষ করে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় নগর বিস্তার সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, গ্রাম থেকে শহরমুখী মানুষের চাপ, নতুন আবাসন প্রকল্প, বহুতল ভবন, হোটেল, বিপণিবিতান ও সড়ক অবকাঠামো বৃদ্ধির কারণে এই পরিবর্তন ঘটেছে।
উপজেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলায় নগর এলাকা বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শতাংশ। সিলেট সদর উপজেলায় বেড়েছে প্রায় ২৪০ শতাংশ। ফেঞ্চুগঞ্জে নগরায়ণ বেড়েছে এক হাজার শতাংশের বেশি। ২০০০ সালে সিলেট সদরে নগর এলাকা ছিল প্রায় ২ হাজার ৩৮৫ হেক্টর। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১১১ হেক্টরে| একই সময়ে গোয়াইনঘাটে নগর এলাকা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৮৫৬ হেক্টর।
প্রকাশনায় ‘হটস্পট’ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেসব এলাকা শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে ভূমি ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বদলেছে| এতে দেখা যায়, বালাগঞ্জ, সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ভূমি রূপান্তর ঘটেছে।
বালাগঞ্জ উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এলাকাকে ভূমি পরিবর্তনের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব এলাকায় দ্রুত নগর বিস্তার, ভূমি উন্নয়ন ও মানবিক হস্তক্ষেপের কারণে পরিবেশগত পরিবর্তন বেশি ঘটেছে। অন্যদিকে কানাইঘাট, ˆজন্তাপুর ও জকিগঞ্জের কিছু এলাকায় তুলনামূলক কম পরিবর্তন হয়েছে। এসব এলাকাকে ‘কোল্ডস্পট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কানাইঘাটে সবচেয়ে বেশি স্থিতিশীল ভূমি পাওয়া গেছে। গবেষণায় ২০০৫ সালে উদ্ভিদ আচ্ছাদনের অস্বাভাবিক হ্রাস এবং খালি জমির ব্যাপক বৃদ্ধির বিষয়টিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, ২০০৪ সালের দীর্ঘস্থায়ী আগাম বন্যা সিলেট অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ও সবুজ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। এর ফলে বহু এলাকা সাময়িকভাবে খালি জমিতে পরিণত হয়। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৫ সালে খালি জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় মোট ভূমির ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশে। একই সময়ে উদ্ভিদ আচ্ছাদন কমে দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৩৮ শতাংশে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সিলেট ভৌগোলিক ভাবেই বন্যাপ্রবণ অঞ্চল। পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও নদীর প্রবাহের কারণে এখানে আকস্মিক বন্যা প্রায়ই দেখা যায়| তবে, সাম্প্রতিক নগরায়ণ ও জলাশয় ধ্বংস পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।
গবেষকদের মতে, কংক্রিটের স্থাপনা ও অপরিবাহী ভূমি বাড়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত জমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা সংকুচিত হওয়ায় পানি নামতে পারছে না। এর ফলে নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে।
এ বিষয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. জহির উদ্দিন জানান, সিলেটকে ভবিষ্যৎ দুর্যোগ ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে এখনই টেকসই নগর পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি|। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অনিয়ন্ত্রিত ভূমি ভরাট বন্ধে কঠোর উদ্যোগ প্রয়োজন।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুরে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতার জাহাঙ্গীর উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামের আক্কেল আলী হাওলাদারের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ১৮ জুলাই তিনি তার মাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান।
এজাহারে বলা হয়, ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১টার দিকে জাহাঙ্গীর পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বসতঘরের পেছনের জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে জাহাঙ্গীর তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ভুক্তভোগীর ১০ মাস বয়সী শিশুর গায়ে অভিযুক্তের পা লাগলে শিশুটি কান্না শুরু করে। পরে চার বছর বয়সী অপর সন্তানও জেগে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় জাহাঙ্গীর শিশুটির মুখ চেপে ধরেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জাহাঙ্গীর ঘরের পেছন দিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী তার স্বামী ও স্বজনদের বিষয়টি জানান। পরে অভিযুক্ত ও তার স্বজনদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি ও চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে। দুপুরে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে মহাদেবপুরে শোভাযাত্রা
"প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।
এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ এতে সভাপতিত্ব করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খুরশিদুল ইসলাম, সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাবলু আজাদ হোসেন মুরাদ প্রমুখ।
শোভাযাত্রায় অন্যদের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, একাডেমিক সুপারভাইজার ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন।
বক্তব্য দানকালে ইউএনও উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল গেটের সামনে ও বিভিন্ন জনসমাবেশস্থলে প্রকাশ্যে ধূমপানকারিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
শিক্ষকের পিটুনির শিকার শিক্ষার্থীদের একাংশ
নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিশুশিক্ষার্থীকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অভিভাবকেরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। তবে ওই শিক্ষক দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে পার পাবার চেষ্টা করছেন। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সম্পর্কে ব্যঙ্গ করার জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুস সালাম।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেবার জন্য কোন শিক্ষক ছিলেন না। এসময় এক শিক্ষার্থী ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ বলে গান গাওয়া শুরু করেন। গানের শব্দে শিক্ষক আব্দুস সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে একখন্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের এলাপাথারি পিটাতে থাকেন। এতে ওই শ্রেণির ২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী আহন হন।
শিশুরা বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যায় তারা বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, ‘সালাম স্যার আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করেন। দল হেরে যাওয়ায় আমরা কয়েকজন মিলে ক্লাসে গান গাইছিলাম ব্যঙ্গ করে। এরপর স্যার এসে আমাদের সবাইকে ইচ্ছেমতো মারধর করেন।’
আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ এইটা বলে আমরা তিনজন গান গেয়েছিলাম। তারপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।’
জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।’
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ খুনের প্রধান আসামী স্বামী সাইফুল ইসলামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে স্ত্রী হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
বিকেলে গাজীপুর পিবিআই কার্য়ালয়ে পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তার স্বামী মো: সাইফুল ইসলাম (৩৮) জামালপুরের ইসলামপুর থানার বেনুয়ারচর এলাকার বাসিন্দা।
গাজীপুর পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, মহানগরের বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতযুক্ত এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সংবাদ পেয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার ক্রাইমসিন টিম অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় সনাক্ত করে। নিহত শান্তা বেগম (৩৩) নাটোর সদরের চরলক্ষীকোল এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে নিহতের পিতা বাসন থানায় মামলা করেন।
তিনি বলেন, বাসন থানা পুলিশ একদিন মামলাটি তদন্ত করে। মামলাটি পিবিআই এর সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ২৩ জুলাই পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটি স্ব-উদ্দোগে গ্রহণ করে। এদিকে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পিবিআই গাজীপুর জেলার টিম প্রথম থেকেই ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় সকাল সাড়ে ৭ দিকে ফায়দাবাদ এলাকার ট্রান্সমিটার মোড় থেকে হত্যাকান্ডের জড়িত আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে নিহত শান্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, সাইফুল আগে একটি বিয়ে করেছিল। সেই সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরে গাজীপুরে গার্মেন্টসে চাকুরি করাবস্থায় শান্তার সাথে সম্পর্ক হয় এবং পরে তারা বিয়ে করে। বিয়ের এক বছর পরে জানতে পারে শান্তার পর্বে আরো দুইটি বিয়ে হয়েছিল। শান্তার প্রথম স্বামী জুয়েল এবং দ্বিতীয় স্বামী সবুজের ঘরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এছাড়াও সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন কারনে শান্তাকে সন্দেহ করতে থাকে শান্তার যে অন্য কারো সাথেও বিবাহ বহির্ভত সম্পর্ক থাকতে পারে। এ বিষয়গুলি জানতে পেরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয় এবং এক পর্যায়ে শান্তা আসামী সাইফুলকে ডিভোর্স দেয়। এরপর আবার আসামীকে একদিন শান্তা ফোন দিয়ে গাজীপরে আসতে বললে আসামী গাজীপুরে এসে শান্তাকে আবার বিয়ে করার পর প্রায় ২/৩ মাস তাদের ভালো চলে। কিন্তু এরপরেও সাইফলের মনে শান্তার প্রতি সন্দেহ থেকেই যায়। এর জেরে ঝগড়া ঝাটি করে সাইফল তার খালুর বাড়ীতে চলে যায়।
গত ২১ জুলাই সকাল শান্তা সাইফুলকে ফোন করে গাজীপুর চৌরাস্তায় আসতে বলে। এসময় সাইফুল শান্তাকে বাসা থেকে ফল কাটার ছুরি নিয়ে আসতে বলে। পরে তারা গাজীপুর চৌরাস্তায় একাটি হোটেলে খাওয়া দাওয়া ওই আবাসিক হোটেলে রুমে অবস্থান কালীন সময় পুরনো কথাবার্তা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এসময় তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল শান্তার আনা ছুরি দিয়ে শান্তার গলায় ও বুকে আরো আঘাত করে মোবাইল ও আইডি কার্ড নিয়ে পালিয়ে যায়।
গাজীপুরে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় পিতার যাবজ্জীন সশ্রম কারাদন্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল, গাজীপুর মহানগরের বিচারক মো. আবুবক্কর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পিপি) মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম এবং আসামি পক্ষের আনজীবী মো. সোহেল জামিন সরকারসহ অন্যান্য আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পিপি) মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম জানান, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার পুরাতন দোহারো খুলুমবাড়ি এলাকার স্থানীয় রিপন হোসেনের স্ত্রী মোসা. জোসনা বেগম (৩৯) এবং মেয়ে (১৫)কে নিয়ে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুরের বরিশালের টেক এলাকায় বসবাস করতেন। গত বছরের ২৬ মার্চ রাত ১০টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পরেন। পরে ওই রাতেই ভিকটিমের পিতা মো. রিপন হোসেন জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় কাশিমপুর থানায় ভিকটিমের মা জোসনা বেগম পিতাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন এবং পুলিশ পাষণ্ড পিতাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। পরে কাশিমপুর থানার এস আই রোকন মিয়া তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জসীট দাখিল করেন। পরে আদালত গত ১১ মে চার্জ গঠন করেন এবং সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। চার্জ গঠনের দুই মাসের মধ্যে বিজ্ঞ বিচারক এ মামলায় রায় ঘোষণা করেন।
আসামী পক্ষের আনজীবী মো. সোহেল জামিন সরকার বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যে কয়জন সাক্ষীর সাক্ষা গ্রহণ করেছেন আমি তাদেরকে যথেষ্ট জেরা করেছি। তাদের একজনের সাথে আরেক জনের সাক্ষয় অনেক অমিল রয়েছে। তারপরেরও বিজ্ঞ বিচারক যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। লিগ্যাল এ্যাড কতৃক নিযুক্ত বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমি এ রায়ে সংক্ষুব্ধ।
গোপালদী বাজারের থাই অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী রক্তদাতা, মানবিক সংগঠক জহিরুল ইসলামের ওপর বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো গোপালদী পৌরসভা।
হামলায় জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে গোপালদী পৌরসভার ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দী পশ্চিম পাড়া কবরস্থান সংলগ্ন খেলার মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি গোপালদী বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গলি প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড দিয়ে শেষ হয়। এ সময় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মিছিলে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ।
মানববন্দনে বক্তব্য রাখেন বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন,রনি খন্দকার,মিয়া চাঁন,আমিন মিয়া,জামাল মিয়া।
এ সময় বক্তারা বলেন, গত ২১ জুন সন্ধ্যায় চাঁদার দাবিতে গোপালদী বাজার বালুর মাঠে ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম,ফারুক,আলমগীর সহ কয়েকজন ব্যবসায়ীদের উপর হামলা করে একই এলাকার মাদককারবারী আক্তার হোসেন,কামাল হোসেন,বিল্লাল হোসেন,জুবায়ের,সুজন,সোহাগ,সিয়াম,ফাহিমসহ আন্তত ৭/৮জন সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়।
এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত হন ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম,ফারুক,আলমগীর হোসেন। হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলেও ঘটনার ১ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামী গ্রেফতার হয়নি।
পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত ব্যবসায়ীরা। দ্রুতই আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়ে ব্যবসায়ীরা বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন।