লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ, ওষুধ এবং সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে হাসপাতালটি কার্যকরভাবে চালু করার দাবিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সমৃদ্ধ লালমনিরহাট।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২টা ৩০মিনিটে সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের পক্ষ থেকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল লালমনিরহাটের তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠিত হয়।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল লালমনিরহাটের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আবু-আল-হাজ্জাজ এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন গণসংহতি আন্দোলন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এবং সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের সংগঠক দীপক কুমার রায়, সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের সংগঠক রাশেদুর জামান, দেওয়ান বাবু, বীরেন চন্দ্র বর্মণ, নূর নবী, বিধান প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে বলা হয় যে, লালমনিরহাট জেলা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় জেলা এবং দেশের উত্তরের প্রান্তিক জেলা। জেলার সমৃদ্ধি, জেলার উন্নতি তা বিশেষভাবে জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও ধারণ করে। জেলাবাসী যদি পদে পদে চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পায় তবে সে জেলা পিছিয়ে-পড়া। যখন জনগণ হাসপাতালে চিকিৎসা বঞ্চিত হয় কিংবা ধুকে ধুকে চিকিৎসার অভাবে মুত্যুবরণ করেন এবং বারবার ভুল চিকিৎসায় যখন মানুষ বিপর্যস্ত; তখন কান্না আর অসহায়ত্ব ছাড়া আর কিছুই করার থাকেনা। আমাদের জেলাবাসী সুচিকিৎসা চায়, তারা নিজ জেলার হাসপাতালেই সেটা চায়। বলাবাহুল্য এই বিষয়টা এই জেলাবাসীর মৌলিক অধিকার।
লালমনিরহাট জেলার সদর হাসপাতাল কার্যত সুচিকিৎসা বলতে যা বোঝায় তা এখনও দিতে সক্ষম নয়। ১০০ শয্যার হাসপাতালটিকে ঘোষণা দিয়ে ২৫০ শয্যা করা হলেও বাড়েনি যথাযথভাবে এর চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ লোকবল। সংবাদমাধ্যমে বহুবার প্রকাশিত খবর যে, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট অবস্থাতেও এই হাসপাতালে ৫০% শতাংশের নিচে জনবল ছিল। কাজেই নতুন করে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল কেবল ভবন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এটি নামমাত্র শুরু হয়েছে। রোগীরা আসলে নতুন ভবনে নতুন বেডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
আমরা দেখে অভ্যস্ত যে, রোগে যন্ত্রণা নিয়ে, ভোগান্তি নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হলেও চিকিৎসা না পেয়ে রোগীকে দ্রুত হতাশ হয়ে রিলিজ নিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, এমনকি সাধারণ রোগেও মাঝে মাঝে চিকিৎসা মেলে না। রোগীরা এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ ঠিকঠাক পান না। কতিপয় ডাক্তার চিকিৎসা দিতে গিয়ে মুশকিলে পড়েন। জরুরি বিভাগ সামলে পুরো হাসপাতাল সমন্বয করা বিরাট বিপদের হয়ে যায়। মাত্র ৮জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে কী একটি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চলতে পারে? গভীর রাতে এর মধ্যেও ন্যূনতম চিকিৎসক দিয়ে কী পুরো হাসপাতালের রোগীর চিকিৎসা করানো সম্ভব? তা সম্ভব নয়। এরপরও আছে ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, যন্ত্রপাতির অভাব, টেকনিশিয়ানের ঘাটতি, রোগীদের স্বাস্থ্যকর খাবার ইত্যাদির বিবিধ সংকট। কাজেই রোগীর চিকিৎসাসেবা যেনতেনভাবে হচ্ছে। রোগীরা চিকিৎসার অভাবে কখনো মারাও পড়ছেন। অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, নয়তো জরুরিভাবে চিকিৎসা নিতে ছুটছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মূলতঃ সর্বস্তরের মানুষ আজ চিকিৎসাবঞ্চিত।
জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এই জেলার সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন চাই, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুচিকিৎসা পেতে চাই।
আরও স্মারকলিপিতে দাবীসমূহে উল্লেখ্য করা হয় যে, ১. শূন্যপদ পূরণ করে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। চক্ষু, ইএনটি, ডেন্টাল সার্জন এবং রেডিওলজি, প্যাথলজি বিভাগে কনসালটেন্ট দিতে হবে। পর্যাপ্ত নার্স নিয়োগ দিতে হবে। ল্যাবরেটরির সকল শাখায় টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে।
২. সেবার মান বাড়াতে ও চিকিৎসা দিতে এক্স-রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ইসিজি, প্যাথলজিক্যাল রিএজেন্ট এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় মেডিকেল ইকুইপমেন্টের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষা- নিরীক্ষা অবিরাম চালু রাখতে হবে।
৩. জরুরি বিভাগ (Emergency) ও ট্রমা সেন্টার ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, এবং বিভাগগুলোতে অভিজ্ঞ চিকিৎসক জুনিয়র ও সিনিয়র কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া। আইসিইউ (ICU), সিসিইউ (CCU) ও ভেন্টিলেটর সুবিধা সচল করতে হবে।
৪. রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কেনার বাধ্যবাধকতা কমিয়ে, হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইসোলেশন বেড ইত্যাদি চালু করতে হবে। হাসপাতালে খাবারের সিডিউল উন্মুক্ত স্থানে ঝুলিয়ে দিতে হবে এবং নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা যাবে না।
৫. রোগীদের তথ্য সংরক্ষণে ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য টেলিমেডিসিন সেবার প্রসার করা।
৬. তত্ত্বাবধায়ক হাসপাতালের প্রধান হওয়ায় তার নেতৃত্বেই সকল দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কনসালটেন্টকে রাতে কর্তব্যরত এলাকায় থাকাটা নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি কল কনসালটেন্টকে অ্যাটেইন করতে হবে।
৭. হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। আরো পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারির সকল পদে নিয়োগ দিতে হবে। অ-অনুমোদিত গাড়ি হাসপাতাল ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকতে পারবে না।
৮. মনিটরিং কমিটি গঠন এবং নিয়মিত অডিট করতে হবে। রোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য চিকিৎসকসহ সকলের আচরণ উন্নত করা। সেবাআকাক্সক্ষী রোগীদেরও হাসপাতালে অবস্থানকালীন সচেতনতা, আচরণ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করাতে হবে। রোগী বা নাগরিকদের জন্য কার্যকর আধুনিক তথ্যকেন্দ্র ও অভিযোগ কেন্দ্র এবং হটলাইন চালু রাখা।
উল্লেখ্য যে, উক্ত স্মারকলিপির অনুলিপি সদয় অবগতির জন্য লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একান্ত সচিবের নিকট প্রেরণ করা হয়।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুরে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতার জাহাঙ্গীর উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামের আক্কেল আলী হাওলাদারের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ১৮ জুলাই তিনি তার মাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান।
এজাহারে বলা হয়, ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১টার দিকে জাহাঙ্গীর পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বসতঘরের পেছনের জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে জাহাঙ্গীর তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ভুক্তভোগীর ১০ মাস বয়সী শিশুর গায়ে অভিযুক্তের পা লাগলে শিশুটি কান্না শুরু করে। পরে চার বছর বয়সী অপর সন্তানও জেগে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় জাহাঙ্গীর শিশুটির মুখ চেপে ধরেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জাহাঙ্গীর ঘরের পেছন দিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী তার স্বামী ও স্বজনদের বিষয়টি জানান। পরে অভিযুক্ত ও তার স্বজনদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি ও চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে। দুপুরে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে মহাদেবপুরে শোভাযাত্রা
"প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।
এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ এতে সভাপতিত্ব করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খুরশিদুল ইসলাম, সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাবলু আজাদ হোসেন মুরাদ প্রমুখ।
শোভাযাত্রায় অন্যদের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, একাডেমিক সুপারভাইজার ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন।
বক্তব্য দানকালে ইউএনও উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল গেটের সামনে ও বিভিন্ন জনসমাবেশস্থলে প্রকাশ্যে ধূমপানকারিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
শিক্ষকের পিটুনির শিকার শিক্ষার্থীদের একাংশ
নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিশুশিক্ষার্থীকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অভিভাবকেরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। তবে ওই শিক্ষক দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে পার পাবার চেষ্টা করছেন। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সম্পর্কে ব্যঙ্গ করার জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুস সালাম।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেবার জন্য কোন শিক্ষক ছিলেন না। এসময় এক শিক্ষার্থী ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ বলে গান গাওয়া শুরু করেন। গানের শব্দে শিক্ষক আব্দুস সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে একখন্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের এলাপাথারি পিটাতে থাকেন। এতে ওই শ্রেণির ২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী আহন হন।
শিশুরা বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যায় তারা বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, ‘সালাম স্যার আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করেন। দল হেরে যাওয়ায় আমরা কয়েকজন মিলে ক্লাসে গান গাইছিলাম ব্যঙ্গ করে। এরপর স্যার এসে আমাদের সবাইকে ইচ্ছেমতো মারধর করেন।’
আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ এইটা বলে আমরা তিনজন গান গেয়েছিলাম। তারপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।’
জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।’
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ খুনের প্রধান আসামী স্বামী সাইফুল ইসলামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে স্ত্রী হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
বিকেলে গাজীপুর পিবিআই কার্য়ালয়ে পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তার স্বামী মো: সাইফুল ইসলাম (৩৮) জামালপুরের ইসলামপুর থানার বেনুয়ারচর এলাকার বাসিন্দা।
গাজীপুর পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, মহানগরের বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতযুক্ত এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সংবাদ পেয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার ক্রাইমসিন টিম অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় সনাক্ত করে। নিহত শান্তা বেগম (৩৩) নাটোর সদরের চরলক্ষীকোল এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে নিহতের পিতা বাসন থানায় মামলা করেন।
তিনি বলেন, বাসন থানা পুলিশ একদিন মামলাটি তদন্ত করে। মামলাটি পিবিআই এর সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ২৩ জুলাই পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটি স্ব-উদ্দোগে গ্রহণ করে। এদিকে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পিবিআই গাজীপুর জেলার টিম প্রথম থেকেই ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় সকাল সাড়ে ৭ দিকে ফায়দাবাদ এলাকার ট্রান্সমিটার মোড় থেকে হত্যাকান্ডের জড়িত আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে নিহত শান্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, সাইফুল আগে একটি বিয়ে করেছিল। সেই সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরে গাজীপুরে গার্মেন্টসে চাকুরি করাবস্থায় শান্তার সাথে সম্পর্ক হয় এবং পরে তারা বিয়ে করে। বিয়ের এক বছর পরে জানতে পারে শান্তার পর্বে আরো দুইটি বিয়ে হয়েছিল। শান্তার প্রথম স্বামী জুয়েল এবং দ্বিতীয় স্বামী সবুজের ঘরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এছাড়াও সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন কারনে শান্তাকে সন্দেহ করতে থাকে শান্তার যে অন্য কারো সাথেও বিবাহ বহির্ভত সম্পর্ক থাকতে পারে। এ বিষয়গুলি জানতে পেরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয় এবং এক পর্যায়ে শান্তা আসামী সাইফুলকে ডিভোর্স দেয়। এরপর আবার আসামীকে একদিন শান্তা ফোন দিয়ে গাজীপরে আসতে বললে আসামী গাজীপুরে এসে শান্তাকে আবার বিয়ে করার পর প্রায় ২/৩ মাস তাদের ভালো চলে। কিন্তু এরপরেও সাইফলের মনে শান্তার প্রতি সন্দেহ থেকেই যায়। এর জেরে ঝগড়া ঝাটি করে সাইফল তার খালুর বাড়ীতে চলে যায়।
গত ২১ জুলাই সকাল শান্তা সাইফুলকে ফোন করে গাজীপুর চৌরাস্তায় আসতে বলে। এসময় সাইফুল শান্তাকে বাসা থেকে ফল কাটার ছুরি নিয়ে আসতে বলে। পরে তারা গাজীপুর চৌরাস্তায় একাটি হোটেলে খাওয়া দাওয়া ওই আবাসিক হোটেলে রুমে অবস্থান কালীন সময় পুরনো কথাবার্তা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এসময় তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল শান্তার আনা ছুরি দিয়ে শান্তার গলায় ও বুকে আরো আঘাত করে মোবাইল ও আইডি কার্ড নিয়ে পালিয়ে যায়।
গাজীপুরে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় পিতার যাবজ্জীন সশ্রম কারাদন্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল, গাজীপুর মহানগরের বিচারক মো. আবুবক্কর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পিপি) মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম এবং আসামি পক্ষের আনজীবী মো. সোহেল জামিন সরকারসহ অন্যান্য আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পিপি) মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম জানান, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার পুরাতন দোহারো খুলুমবাড়ি এলাকার স্থানীয় রিপন হোসেনের স্ত্রী মোসা. জোসনা বেগম (৩৯) এবং মেয়ে (১৫)কে নিয়ে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুরের বরিশালের টেক এলাকায় বসবাস করতেন। গত বছরের ২৬ মার্চ রাত ১০টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পরেন। পরে ওই রাতেই ভিকটিমের পিতা মো. রিপন হোসেন জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় কাশিমপুর থানায় ভিকটিমের মা জোসনা বেগম পিতাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন এবং পুলিশ পাষণ্ড পিতাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। পরে কাশিমপুর থানার এস আই রোকন মিয়া তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জসীট দাখিল করেন। পরে আদালত গত ১১ মে চার্জ গঠন করেন এবং সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। চার্জ গঠনের দুই মাসের মধ্যে বিজ্ঞ বিচারক এ মামলায় রায় ঘোষণা করেন।
আসামী পক্ষের আনজীবী মো. সোহেল জামিন সরকার বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যে কয়জন সাক্ষীর সাক্ষা গ্রহণ করেছেন আমি তাদেরকে যথেষ্ট জেরা করেছি। তাদের একজনের সাথে আরেক জনের সাক্ষয় অনেক অমিল রয়েছে। তারপরেরও বিজ্ঞ বিচারক যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। লিগ্যাল এ্যাড কতৃক নিযুক্ত বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমি এ রায়ে সংক্ষুব্ধ।
গোপালদী বাজারের থাই অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী রক্তদাতা, মানবিক সংগঠক জহিরুল ইসলামের ওপর বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো গোপালদী পৌরসভা।
হামলায় জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে গোপালদী পৌরসভার ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দী পশ্চিম পাড়া কবরস্থান সংলগ্ন খেলার মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি গোপালদী বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গলি প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড দিয়ে শেষ হয়। এ সময় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মিছিলে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ।
মানববন্দনে বক্তব্য রাখেন বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন,রনি খন্দকার,মিয়া চাঁন,আমিন মিয়া,জামাল মিয়া।
এ সময় বক্তারা বলেন, গত ২১ জুন সন্ধ্যায় চাঁদার দাবিতে গোপালদী বাজার বালুর মাঠে ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম,ফারুক,আলমগীর সহ কয়েকজন ব্যবসায়ীদের উপর হামলা করে একই এলাকার মাদককারবারী আক্তার হোসেন,কামাল হোসেন,বিল্লাল হোসেন,জুবায়ের,সুজন,সোহাগ,সিয়াম,ফাহিমসহ আন্তত ৭/৮জন সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়।
এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত হন ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম,ফারুক,আলমগীর হোসেন। হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলেও ঘটনার ১ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামী গ্রেফতার হয়নি।
পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত ব্যবসায়ীরা। দ্রুতই আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়ে ব্যবসায়ীরা বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন।