• প্রকাশ : শনিবার ১১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৪০ পিএম

অনেক কারণেই ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে অনন্য এক অধ্যায় হয়ে উঠেছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দলের অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে যৌথভাবে তিন আয়োজক দেশ ৩৯ দিনের এ টুর্নামেন্টকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে জমকালো আসর করে তুলেছে। তবে কেবল জাঁকজমকই নয়, মাঠে দর্শকদের ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা আরও উপভোগ্য ও খেলোয়াড়দের জন্য খেলাকে আধুনিক করতে এবার প্রযুক্তির অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ।


বিশ্বকাপে প্রযুক্তি নতুন চমকগুলো নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে আল জাজিরা। সেখানে একটু নজর বুলানো যাক-



১. সেন্সরওয়ালা অফিশিয়াল বল


এ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রায়োন্ডা’। স্প্যানিশ ভাষায় যার অর্থ ‘তিন তরঙ্গ’। অ্যাডিডাসের তৈরি এ বলটির বিশেষত্ব হচ্ছে এ বলের ভেতরে বসানো হয়েছে নিখুঁত ও ক্ষুদ্র ‘ইনারশিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট’ বা আইএমইউ সেন্সর চিপ।


চিপটি বলের প্রতিটি নড়াচড়ার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তথ্য সরবরাহ করে। সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার বলের গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারে, যা ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি অবস্থানে বলের গতি ও সূক্ষ্ম বিভিন্ন ঘূর্ণনকে নিখুঁতভাবে পরিমাপ করে।


এক বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, “প্রযুক্তিটি রিয়াল-টাইম বা লাইভে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর সিস্টেমে একদম সঠিক ডেটা পাঠাবে। ফলে অফসাইডের মতো জটিল বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাচ অফিশিয়ালদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নির্ভুল হবে।”


ফিফার ‘হেড অফ রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস’ নিকোলাস এভান্স বলেছেন, সেন্সরটি জানাবে ‘থ্রিডি অবস্থানে বলটি ঠিক এই মুহূর্তে কী করছে’।


২. এআইচালিত থ্রিডি প্লেয়ার অ্যাভাটার


প্রযুক্তির ছোঁয়া কেবল ম্যাচ বলেই আটকে নেই, এর বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন খোদ খেলোয়াড়রাও। পার্সোনাল কম্পিউটার নির্মাণে বিশ্বে বৃহত্তম কোম্পানি ‘লেনোভো’র সঙ্গে ফিফার অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে বছরের শুরুতে এআইচালিত বেশ কিছু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এসেছে, যার মধ্যে অন্যতম এআইচালিত থ্রিডি প্লেয়ার অ্যাভাটার।


এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রত্যেক খেলোয়াড়ের দেহ ডিজিটালি স্ক্যান করে নিখুঁত এক থ্রিডি মডেল বা অ্যাভাটার তৈরি হবে। প্রতিটি স্ক্যান সম্পন্ন করতে সময় লাগবে কেবল এক সেকেন্ডের মতো।


ফিফার ভাষ্য অনুসারে, এ স্ক্যান খেলোয়াড়দের দেহের প্রতিটি অংশের নিখুঁত পরিমাপ ধারণ করবে। ফলে মাঠে প্রচণ্ড গতিতে ছুটে চলা বা অন্য খেলোয়াড়দের আড়ালে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তেও সিস্টেমটি খেলোয়াড়দের অবস্থান নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করতে পারবে।


জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ফিফা বলেছিল, “সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এ এআইচালিত থ্রিডি প্লেয়ার অ্যাভাটার এক যুগান্তকারী উন্নয়ন।


“ভিএআর সিস্টেমের মাধ্যমে নেওয়া অফসাইডের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শক ও বিশ্বজুড়ে থাকা টেলিভিশন দর্শকদের সামনে আরও বাস্তবসম্মত উপায়ে দেখাতে এসব থ্রিডি মডেল ব্রডকাস্ট বা সরাসরি সম্প্রচারে যোগ হবে।”


বিশ্বের বড় বড় ফুটবল লিগগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের পর এবার বিশ্বকাপের সবকটি (১০৪টি) ম্যাচেই রেফারিদের দেহে বিশেষ ‘বডি ক্যামেরা’ ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে দর্শকরা একদম মাঠের ভেতরে থাকা রেফারির চোখ দিয়ে খেলা দেখার মতো এক অনন্য অভিজ্ঞতা পাবেন।


৩. রোবট কুকুর


বিশ্বকাপের সময় যে কোনো ধরনের অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে মেক্সিকান পুলিশ এবার কুকুরের ওপর ভরসা রাখছে। তবে তা কোনো সাধারণ চারপেয় জীব নয়, বরং যান্ত্রিক বা রোবট কুকুর!


চার পায়ের এসব রোবটকে যে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক এলাকায় প্রবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করে তা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে পাঠাবে এসব রোবট, যা দেখে মাঠের পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।


মেক্সিকোর মন্তেরেই মেট্রো অঞ্চলের গুয়াদালুপে সিটি কাউন্সিল প্রায় ২৫ লাখ পেসো বা ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার ব্যয়ে এসব অ্যানিম্যালয়েড বা প্রাণীর মতো দেখতে রোবট সংগ্রহ করেছে।


এ বিষয়ে স্থানীয় মেয়র হেক্টর গার্সিয়া বলেছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন মাঠে ‘যে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা বিশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে’ এগুলো মোতায়েন হবে।


“এসব রোবট কুকুরের মূল উদ্দেশ্য হল, প্রাথমিক হস্তক্ষেপে পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তা ও মাঠকর্মীদের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।


৪. উন্নত সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি


লাইন্সম্যানের দেরিতে অফসাইড ফ্ল্যাগ তোলার কারণে যারা বিরক্ত হন তাদের সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। ফিফা এবার আরও উন্নত ‘সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি’ চালু করেছে, যা মাঠের অফিশিয়ালদের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে।


আগের সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তিটি রিয়াল-টাইমে অফসাইড শনাক্তের জন্য ডিজাইন করা হলেও কোনো খেলোয়াড় কেবল ৫০ সেন্টিমিটারের বেশি অফসাইডে থাকলেই তা অফিশিয়ালদের সতর্ক করত।


তবে এর নতুন ও পরিমার্জিত সংস্করণে কেবল ১০ সেন্টিমিটার বা তার কাছাকাছি অফসাইড হলেও সিস্টেমটি সংকেত দেয়, যা ম্যাচ অফিশিয়ালদের আরও নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে।


এ ছাড়া, ভিএআর রুম থেকে যোগাযোগের অপেক্ষা না করে এবার মাঠের রেফারিরা সরাসরি তাদের ইয়ারপিস বা হেডফোনে রিয়াল-টাইম অডিও অ্যালার্ট পেয়ে যাবেন।


তবে এ প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রযুক্তিটি কেবল খেলোয়াড়ের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে অফসাইড ধরতে পারবে, কোনো সাবজেক্টিভ বা পরিস্থিতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।


পাশাপাশি একদম কাছাকাছি থাকা সূক্ষ্মতম বিভিন্ন কলও আলাদা করতে পারবে না। কোনো খেলোয়াড় মাঠের খেলায় বাধা বা হস্তক্ষেপ করছিলেন কি না তা এ প্রযুক্তি বিচার করতে পারবে না। খেলোয়াড়রা মাটিতে পড়ে থাকলে বা একাধিক শরীর খুব কাছাকাছি ঠাসাঠাসি অবস্থায় থাকলেও প্রযুক্তিটি অফসাইডের সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হতে পারে।


এরপরও ফিফার দাবি, নতুন প্রযুক্তি দর্শক ও খেলোয়াড়দের বিরক্তি কমানোর পাশাপাশি অফসাইড থাকার পরও অপ্রয়োজনে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের চোট বা ইনজুরির ঝুঁকিও অনেকখানি কমিয়ে আনছে।


৫. ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতি


খেলোয়াড়দের দেহের সুস্থতা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ফিফা এবার বিশ্বকাপের প্রতিটি অর্ধে তিন মিনিটের নির্ধারিত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতি চালু করেছে।


এর জন্য আবহাওয়া বা তাপমাত্রার কোনো বাধ্যবাধকতা বা শর্ত থাকবে না। প্রতি অর্দ্ধের মাঝামাঝি সময়ে বা ২২তম মিনিটের কাছাকাছি এই বিরতি দেওয়া হচ্ছে।


২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ইউএসএ’র চিফ টুর্নামেন্ট অফিসার মানোলো জুবিবিয়া বলেছেন, “যে কোনো ম্যাচের জন্যই এটা প্রযোজ্য। খেলা যেখানেই হোক না কেন, স্টেডিয়ামে ছাদ থাকুক বা না থাকুক বা তাপমাত্রা যেমনই হোক উভয় অর্ধে তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক থাকবে। রেফারির বাঁশি বাজার পর থেকে আবার খেলা শুরু হওয়া পর্যন্ত পুরো তিন মিনিট সময় দেওয়া হবে।


“অবশ্যই, যদি ২০ বা ২১তম মিনিটে মাঠে কোনো খেলোয়াড় চোট পান ও তার চিকিৎসা চলতে থাকে তবে রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেই অনুসোর বিরতির সময় সমন্বয় করবেন।”


তবে পানি পানের বিরতি বা হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে খুব।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:৩৭ পিএম

আইফোনের নতুন আপডেটে ‘লুকানো’ একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ফিচার এসেছে প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল।


এ সপ্তাহে আইওএসের নতুন বিটা সংস্করণ ‘আইওএস ২৬.৬’ প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি। ব্লক করা কনট্যাক্টের সংখ্যা পরিবর্তনের সুবিধা ছাড়া এতে দৃশ্যমান বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও আগামী সেপ্টেম্বরে আসতে যাওয়া অ্যাপলের বড় আপডেট ‘আইওএস ২৭’-এর জন্য আইফোনের ভিত তৈরি করতে পারে এ নতুন আপডেট।


এ সফটওয়্যার আপডেটটি ইনস্টলের পর ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘রি-ইনডেক্সিং’ প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা পরবর্তীতে বড় আপডেটের জন্য আইফোনকে প্রস্তুত করে তুলবে বলে প্রতিদবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।


আপডেটের বিবরণীতে অ্যাপল বলেছে, “এ আপডেটে সিস্টেমের ত্রুটি সংশোধন বা বাগ ফিক্স, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পরবর্তীতে আসতে যাওয়া আইওএস ২৭-এর প্রস্তুতি হিসেবে স্পটলাইট ইনডেক্সকে অপটিমাইজ করার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”


জুনে অ্যাপলের বার্ষিক সম্মেলন ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেভেলপারস কনফারেন্স’ বা ডব্লিউডব্লিউডিসি’তে উন্মোচিত হওয়া আইওএস ২৭ আগামী সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে পারে।


নতুন এ আইওএসে ভিজুয়াল ডিজাইনে পরিবর্তন আনা ও শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় নতুন বিভিন্ন টুল যোগের মতো বেশ কিছু আপডেট থাকছে। তবে এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে, ‘সিরি এআই’, যা অ্যাপলের ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সহকারীকে এখানে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিয়েছে।


ডিজিটাল সহকারী হিসেবে সিরিকে আরও বেশি কার্যকর করে তুলতে এ নতুন সংস্করণে এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়েছে অ্যাপল।


যেমন, কোনো ব্যবহারকারী যদি এক বছর আগে কোনো বন্ধুর সুপারিশ করা কোনো রেস্তোরাঁ সম্পর্কে জানতে চান, তবে নতুন সিরি আইফোনের পুরানো সব তথ্য বিশ্লেষণ করে সেই বার্তাটি খুঁজে বের করতে পারবে।


ব্যবহারকারী সরাসরি সেই নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার না করে ইঙ্গিত দিলেও বার্তাটি শনাক্ত করে সে অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সিরি।


নতুন ফিচারটি কার্যকর করতে ‘সিরি’র নতুন সংস্করণটিকে ফোনের সংরক্ষিত সব ডেটার একটি নতুন ‘ইনডেক্স’ বা তালিকা তৈরি করতে হবে। ফলে ছবি বা বার্তার মতো প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্যে এআইচালিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই অনুসন্ধান চালাবে নতুন সিরি।


আসন্ন আইওএস ২৭-এর প্রাথমিক ব্যবহারকারীরা বলেছেন, ডেটা পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে বেশ দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। ফলে ফোনের ব্যাটারি লাইফ ও পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি নতুন আপডেট ইনস্টলের পর বেশ কয়েক দিন পর্যন্ত সিরির নতুন সংস্করণটি ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে।


অ্যাপল বলেছে, আইফোন ব্যবহারকারীরা নতুন আপডেটটি ইনস্টলের পর এ পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যাকগ্রাউন্ডে নীরবে কাজ করবে। সেপ্টেম্বরে আপডেটটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর আগেই ডেটা রি-ইনডেক্সিংয়ের কাজ শেষ হবে এবং আপডেট ইনস্টলের পরই সিরির নতুন সংস্করণটি ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে।


বর্তমানে আইওএস ২৬.৬ সংস্করণটি বিটা সংস্করণ হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে। খুব শিগগিরই তা ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে, যা সেটিংসে গিয়ে সাধারণ সফটওয়্যার আপডেট হিসেবে ইনস্টল করে নিতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।


গ্রীষ্মকালে অ্যাপল সাধারণত তাদের সফটওয়্যারে ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন আনে। তবে বর্তমানে অ্যাপলের মূল মনোযোগ আগামী আইওএস ২৭ আপডেটের দিকেই। সেপ্টেম্বরের আগে বর্তমান সংস্করণে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।


এদিকে, অ্যাপলের আইওএস ২৭-এর পাবলিক বিটা সংস্করণ উন্মুক্তের প্রায় এক সপ্তাহ পর আইওএস ২৬.৬ প্রকাশ হল, অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা চাইলে নতুন এ সফটওয়্যারটির প্রাথমিক সংস্করণ এখনই ব্যবহার করতে পারবেন।


এক্ষেত্রে বিটা সংস্করণ হওয়ায় আপডেটটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিস্টেমে ত্রুটি বা বাগ থাকা, ফোনের পারফরম্যান্স ধীর হওয়া বা বিভিন্ন অ্যাপ ও সেবায় জটিলতা তৈরির বিষয়ে সতর্ক করেছে অ্যাপল।

বিষয় : আইফোন

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৪৭ পিএম

গুগলের পরবর্তী স্মার্টওয়াচ পিক্সেল ওয়াচ ৫ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনের আগেই নতুন একটি তথ্য ফাঁস হয়েছে। এবার প্রকাশিত উচ্চ রেজল্যুশনের রেন্ডার ছবিতে স্মার্টওয়াচটির সম্ভাব্য নকশা, একাধিক রঙের সংস্করণ, নতুন ওয়াচ ফেস এবং স্ট্র্যাপের সমন্বয় দেখা গেছে। পাশাপাশি জানা গেছে, আগের মতো এবারও দুটি আকারে বাজারে আসতে পারে ডিভাইসটি। তবে দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।


ফাঁস হওয়া তথ্যটি প্রকাশ করেছে দ্য টাইট চার্ট নামের একটি ওয়েবসাইট। রেন্ডারগুলো শেয়ার করেছেন পরিচিত প্রযুক্তি টিপস্টার স্টিভ এইচ. ম্যাকফ্লাই, যিনি @OnLeaks নামে বেশি পরিচিত। অতীতে তার প্রকাশ করা অনেক তথ্যই পরবর্তীতে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।


চারটি রঙে আসতে পারে

ফাঁস হওয়া রেন্ডার অনুযায়ী, পিক্সেল ওয়াচ ৫ চারটি রঙে পাওয়া যেতে পারে। এগুলো হলো- কালো স্ট্র্যাপসহ, হালকা ধূসর স্ট্র্যাপসহ, অলিভ রঙের স্ট্র্যাপসহ, কোরাল রঙের স্ট্র্যাপসহ। তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ম গোল্ড রংটি আপাতত শুধু ৪১ মিলিমিটার সংস্করণে দেখা গেছে। তবে ভবিষ্যতে ৪৫ মিলিমিটার মডেলেও এই রং আসতে পারে।


ডিজাইনে বড় পরিবর্তন নেই

রেন্ডারগুলো থেকে বোঝা যায়, পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর ডিজাইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেনি গুগল। এটি অনেকটাই আগের পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর মতো দেখতে হবে। এতে থাকবে পরিচিত গম্বুজাকৃতির ডিসপ্লে, পাশে চার্জিং কনট্যাক্ট এবং গুগলের নিজস্ব ব্যান্ড সংযুক্তির ব্যবস্থা। এর অর্থ, আগের পিক্সেল ওয়াচের স্ট্র্যাপ নতুন মডেলেও ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলে পুরোনো ব্যবহারকারীদের নতুন করে স্ট্র্যাপ কিনতে নাও হতে পারে।


নতুন ওয়াচ ফেসে থাকবে জেমিনি শর্টকাট

ফাঁস হওয়া ছবিতে একটি নতুন ওয়াচ ফেসও দেখা গেছে। এতে অ্যানালগ ঘড়ির ডায়াল, ঢেউখেলানো ব্যাকগ্রাউন্ড এবং জেমিনি এআই-এ দ্রুত প্রবেশের জন্য একটি আলাদা শর্টকাট রয়েছে। এতে ব্যবহারকারীরা হাতের কব্জি থেকেই দ্রুত গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী ব্যবহার করতে পারবেন।


দুটি আকার, দুটি সংযোগ সুবিধা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিক্সেল ওয়াচ ৫ আগের মতোই ৪১ মিলিমিটার ও ৪৫ মিলিমিটার এই দুই আকারে আসবে। প্রতিটি সংস্করণেই থাকবে দুটি সংযোগ সুবিধা- শুধু ওয়াই-ফাই, ওয়াই-ফাই + এলটিই। এছাড়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল যোগাযোগ কমিশন (ফিএসএস)-এর নথিতেও পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর চারটি মডেল নম্বর দেখা গেছে। সেখান থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নির্দিষ্ট কিছু মডেলে এলটিই, স্যাটেলাইট জরুরি এসওএস, আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড (ইউডব্লিউবি) এবং ওয়াই-ফাই ৬-এর মতো আধুনিক সংযোগ প্রযুক্তি থাকবে।


বাড়তে পারে দাম

সবচেয়ে আলোচিত তথ্যগুলোর একটি হলো সম্ভাব্য মূল্য বৃদ্ধি। ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের প্রজন্মের তুলনায় পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর দাম প্রায় ৫০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। সম্ভাব্য দাম হতে পারে- ৪১ মিমি ওয়াই-ফাই ৩৯৯ ডলার, ৪৫ মিমি ওয়াই-ফাই ৪২৯ ডলার, ৪১ মিমি এলটিই ৪৯৯ ডলার, ৪৫ মিমি এলটিই ৫২৯ ডলার। তবে এগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।


কবে আসবে?

গুগল আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য মেড বাই গুগল ইভেন্টে পিক্সেল ওয়াচ ৫ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানেই নতুন পিক্সেল স্মার্টফোনের পাশাপাশি এই স্মার্টওয়াচেরও ঘোষণা আসতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত সব তথ্যই ফাঁস হওয়া রেন্ডার ও বিভিন্ন সূত্রের ওপর ভিত্তি করে জানা গেছে, তবুও এগুলো থেকে ধারণা মিলছে গুগল এবার বড় ধরনের ডিজাইন পরিবর্তনের বদলে সফটওয়্যার, এআই সুবিধা এবং সংযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৩২ পিএম

হঠাৎ করেই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ব্যবহারে সমস্যায় পড়েছেন অনেক ব্যবহারকারী। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে গিয়ে সম্পূর্ণ অচল অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন। মোবাইল অ্যাপে সমস্যা না থাকলেও ওয়েব ভার্সনে বার্তা পাঠানো, নিউজফিড দেখার ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে সমস্যা।


দুপুর ১টা ৪০-এর পর থেকেই অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা জানাতে শুরু করেন। অনেকের ক্ষেত্রে ফেসবুক খুললেও নতুন পোস্ট লোড হচ্ছে না, আবার মেসেঞ্জারে পাঠানো বার্তা যাচ্ছে না বা দীর্ঘ সময় ধরে ‘সেন্ডিং’ দেখাচ্ছে। ফলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে। তবে এই সমস্যা ফেসবুক ওয়েব ভার্সনে দেখা যাচ্ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর সেবা বন্ধ হয়ে গেলে এর প্রভাব শুধু বিনোদন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বর্তমানে অনেক ছোট ব্যবসা, অনলাইন উদ্যোক্তা, সংবাদমাধ্যম ও ফ্রিল্যান্সাররা ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কয়েক ঘণ্টার সমস্যাও তাদের কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ফেসবুক-মেসেঞ্জারের মতো বড় প্ল্যাটফর্মে সাময়িক সমস্যা তৈরি হলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে দ্রুত উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। মেটার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমস্যার কারণ বা সমাধানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের অপেক্ষা করা ছাড়া তেমন কোনো বিকল্প নেই।

সর্বশেষ সব খবর

সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৩০ পিএম

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া বা পরিচয় যাচাই নিয়ে জটিলতায় পড়ার ঘটনা এখন বেশ সাধারণ। অনেক সময় সন্দেহজনক লগইন শনাক্ত হলে বা অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারীকে নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে সহায়তা করতে ভেরিফিকেশন সেলফি নামে একটি নিরাপত্তা ফিচার ব্যবহার করছে মেটা।


এই ফিচারের মাধ্যমে প্রয়োজনে ব্যবহারকারীর মুখের ছবি যাচাই করে অ্যাকাউন্টের প্রকৃত মালিক নিশ্চিত করা হয়। ফলে অননুমোদিত ব্যক্তির পক্ষে অন্যের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও নিরাপদ হয়।


কীভাবে চালু করবেন ভেরিফিকেশন সেলফি


> ফিচারটি চালু করতে প্রথমে ফেসবুক অ্যাপ খুলে উপরের ডান পাশে থাকা তিন দাগ আইকনে ট্যাপ করুন। এরপর সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি থেকে সেটিংসে প্রবেশ করুন।


> এরপর অ্যাকাউন্টস সেন্টার নির্বাচন করে পাসওয়ার্ড অ্যান্ড সিকিউরিটি অপশনে যান। সেখানে ভেরিফিকেশন সেলফি নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন। সেটিতে ট্যাপ করে যে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ফিচারটি চালু করতে চান, সেটি নির্বাচন করুন।


> পরবর্তী ধাপে নেক্সট বাটনে চাপ দিলে আপনার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ই-মেইল ঠিকানায় একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হবে। কোডটি নির্ধারিত স্থানে লিখে আবার নেক্সট নির্বাচন করুন।


> এরপর স্টার্ট সেলফি অপশনে ট্যাপ করলে মোবাইলের ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি চাইবে। অনুমতি দেওয়ার পর পর্দায় প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুসরণ করে সেলফি যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। এ সময় মাথা ডানে-বামে ঘোরানো, ক্যামেরার দিকে তাকানো বা নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে মুখ নড়ানোর মতো কয়েকটি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হতে পারে।


> যাচাই সফল হলে ফিচারটি সক্রিয় হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে পরিচয় নিশ্চিত করতে এটি ব্যবহার করা হবে।


শুধু এই ফিচারই যথেষ্ট নয়


ভেরিফিকেশন সেলফি অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে কার্যকর হলেও এটিই একমাত্র সুরক্ষা নয়। নিরাপদ থাকতে শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখা, অচেনা লিংকে ক্লিক না করা, নিয়মিত লগইন অ্যাক্টিভিটি পরীক্ষা করা এবং অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ই-মেইল ও মোবাইল নম্বর হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।


ডিজিটাল প্রতারণার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় ফেসবুকের নিরাপত্তা ফিচারগুলো ব্যবহার করা এখন শুধু সুবিধা নয়, বরং প্রয়োজনও বটে।


সর্বশেষ সব খবর

ফেসটাইম অ্যাপ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ এএম

ফেসটাইম অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণার হচ্ছে বলে আইফোন ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেছে অ্যাপল। 


প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সাইবার অপরাধীরা এখন ফেসটাইম অ্যাপে ভিডিও কলের মাধ্যমে নিজেদের ব্যাংকের কর্মকর্তা, প্রযুক্তিসহায়তাকর্মী, সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি বা পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করছে। পরে সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাবের অর্থও হাতিয়ে নিচ্ছে।


অ্যাপলের তথ্যমতে, সাধারণ ফোনকলের তুলনায় ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রতারণা করা সহজ। কারণ, চেহারা দেখে কথা বলার সুযোগ থাকায় অনেকেই ফোনকল করা ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ করেন না। 


নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারকেরা মানুষের এই মানসিক প্রবণতাকেই কাজে লাগাচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতারণার শুরু হয় একটি খুদে বার্তা দিয়ে। সেখানে দাবি করা হয়, ব্যবহারকারীর ব্যাংক হিসাব বা ক্রেডিট কার্ডে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এরপর পরিচয় যাচাই বা সমস্যার সমাধানের অজুহাতে ফেসটাইমে ভিডিও কলে যুক্ত হতে বলা হয়।


ভিডিও কলে প্রতারকেরা ব্যবহারকারীদের অনলাইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ, অর্থ স্থানান্তর বা একবার ব্যবহারযোগ্য নিরাপত্তা কোড (ওটিপি) দেওয়ার সময় পর্দার (স্ক্রিন) ছবি পাঠাতে রাজি করায়। এর ফলে তারা পাসওয়ার্ড, ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও নিরাপত্তা কোড সরাসরি দেখতে পারে। এসব তথ্য ব্যবহার করেই অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। আর তাই সন্দেহজনক ফেসটাইম কল বা আমন্ত্রণ-সংক্রান্ত লিংক সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বিষয়টি সম্পর্কে নিজেদের কাছে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছে অ্যাপল।


অ্যাপল জানিয়েছে, অ্যাপলের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মী কখনোই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ফেসটাইম অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে পাসওয়ার্ড, নিরাপত্তা কোড বা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য চান না। এমন অনুরোধ পেলে সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে দিতে হবে। প্রযুক্তিসহায়তার নামেও একই ধরনের প্রতারণা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ব্যবহারকারীদের কাছে ভুয়া নিরাপত্তা সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দাবি করা হয়, তার আইফোন হ্যাক হয়েছে বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রবেশ করেছে। পরে প্রযুক্তিসহায়তাকর্মী পরিচয়ে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে দূর থেকে আইফোনে নজরদারি সফটওয়্যার ইনস্টল, নিরাপত্তা সেটিংস পরিবর্তন বা লগইন তথ্য দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করা হয়। এতে অজান্তেই আইফোনে থাকা বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ সাইবার অপরাধীদের হাতে চলে যায়।


নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে অন্য ব্যক্তির ভিডিও, আগে ধারণ করা ভিডিও, বিভিন্ন ফিল্টার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে প্রতারণাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা হচ্ছে। আর তাই ফেসটাইম অ্যাপে ভিডিও কলের স্ক্রিন শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সন্দেহজনক কোনো ফেসটাইম ফোনকল পেলে সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:২৯ পিএম

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের ডিজিটাল পরিচয়েরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মোবাইল ব্যাংকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, গুরুত্বপূর্ণ নথি সবকিছুই এখন একটি ফোনে সংরক্ষিত থাকে। তাই ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে শুধু ডিভাইসের ক্ষতিই নয়, আর্থিক ও ব্যক্তিগত তথ্যও ঝুঁকিতে পড়ে।


এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। জেনে নিন ফোন হারানোর পর কী করবেন।


১. দ্রুত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন


প্রথমেই নিকটস্থ থানায় গিয়ে ফোন হারানো বা চুরির বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন। অভিযোগে ফোনের আইএমইআই নম্বর, মডেল, রং এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর উল্লেখ করুন। এই তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফোন শনাক্ত ও উদ্ধারে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রমাণ হিসেবেও জিডি কাজে আসবে।


২. মোবাইল সিম সঙ্গে সঙ্গে ব্লক করুন


ফোন হারানোর পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ব্যবহৃত সিম কার্ডটি দ্রুত ব্লক করা। কারণ প্রতারকরা আপনার নম্বর ব্যবহার করে ওটিপি গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংকিং বা অন্যান্য অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে সিম ব্লক করুন এবং পরে একই নম্বরের রিপ্লেসমেন্ট সিম সংগ্রহ করুন।


৩. ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসকে জানান


ফোনে যদি ব্যাংকিং অ্যাপ, মোবাইল ওয়ালেট যুক্ত থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনে সাময়িকভাবে ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ রাখুন অথবা অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করুন। এতে অননুমোদিত লেনদেনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।


৪. ফাইন্ড মাই ডিভাইস বা ফাইন্ড মাই আইফোন ব্যবহার করুন


অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ফাইন্ড মাই ডিভাইস এবং আইফোন ব্যবহারকারীরা ফাইন্ড মাই ফিচারের মাধ্যমে ফোনের অবস্থান জানার চেষ্টা করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে এই সেবার মাধ্যমে দূর থেকেই ফোন লক করা, স্ক্রিনে বার্তা দেখানো কিংবা প্রয়োজন হলে ডিভাইসের সব তথ্য মুছে ফেলার সুযোগও পাওয়া যায়।


৫. কয়েক দিন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণে রাখুন


ফোন হারানোর পর কয়েক দিন নিয়মিত ব্যাংক স্টেটমেন্ট, মোবাইল ওয়ালেট এবং ই-মেইল অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করুন। কোনো অচেনা লেনদেন, লগইন বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানান এবং প্রয়োজন হলে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

সর্বশেষ সব খবর