ছবি : সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ এএম

শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ানো সব বাবা-মার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সবজি, যা অনেক সময় শিশুরা খেতে চায় না। তবে সঠিক পদ্ধতি এবং কিছু সহজ কৌশল ব্যবহার করলে শিশুরা নতুন স্বাদে অভ্যস্ত হয় এবং স্বাভাবিকভাবে সবজি খেতে


চলুন জেনে নিই কয়েকটি কার্যকর উপায়, যা ছোটদের সবজি খাওয়াকে সহজ ও মজাদার করে তোলে।


সবজি রোস্ট করুন


রোস্ট করলে সবজি আরও সুস্বাদু হয়। বড় সবজি ১ ইঞ্চি করে কেটে নিন, ছোটগুলো পুরো রাখুন। অলিভ অয়েল দিয়ে মিশিয়ে ৪০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ওভেনে দিন। মাঝে মাঝে নেড়ে নিন। সবজি সুন্দরভাবে ভাজা ও কোমল হলে পরিবেশন করুন। ব্রকোলি, গাজর, আলু, ফুলকপি... সব রোস্ট করা যায়। হালকা ক্রাঞ্চি সল্ট দিলে ছোটদের আরও ভালো লাগে।


শিশুদের রান্নার কাজের অংশ নিতে দিন


ছোটদের জন্য সবজি খোসা ছাড়ানো বা ধোয়া মজার কাজ হতে পারে। গাজর, শসা, আলুর খোসা ছাড়ানো তাদের জন্য মজার ও সহজ কাজ। তাদেরকে ছোট ছোট কাজগুলো করতে দিন।


সবজি নুডলস বানান


স্পাইরালাইজার দিয়ে জুকিনি, স্কোয়াশ, বিট, গাজর, শশা বা আলু নুডল আকারে কেটে দিন। নুডল দেখে শিশুরা আগ্রহী হয়। বড়রা ব্লেড ধরে রাখুন, যেন আপনার সন্তান সবজি নুডল তৈরি করতে পারে।


সুপ তৈরি করুন


ছোটরা অনেক সময় সুপ পছন্দ করে। গাজর, ব্রকোলি, ফুলকপি বা আলু দিয়ে ক্রিমি সুপ বানান। আপনার শিশুকে হ্যান্ড ব্লেন্ডার দিয়ে মেশাতে দিন। চাইলে টক দই, ক্রাউটন বা কিছু হার্ব দিয়ে সুপ সাজাতে পারেন, শিশুরা আরও খেতে উৎসাহিত হবে।


সবজি মাশ (Mash) করুন


শিশুরা সাধারণত মাশ করা (ভর্তা করা) খাবার পছন্দ করে। আলুর সঙ্গে গাজর, ফুলকপি, ব্রকলি মাশ করে দিতে পারেন।


সবজি দিয়ে ফ্রাইড রাইস


বাসায় রান্না করা ভাত, খিচুরিতে আগ্রহ না থাকলেও রেস্তোরাঁর মতো করে ফ্রাইড রাইস পেলে শিশুদের খুশির সীমা থাকে না। সঙ্গে মুরগি ভাজা পেলে তো কথাই নেই। একটু বুদ্ধি খাটালে ওই অস্বাস্থ্যকর ‘ফ্রাইড রাইস’কেই স্বাস্থ্যকর বানানো সম্ভব। বুদ্ধিটা খুবই সহজ। ‘ফ্রাইড রাইস’ তৈরির সময় সঙ্গে গাজর, মটরশুঁটি, ফুলকপি, পেঁপে ইত্যাদি কেটে মিশিয়ে দিন। 


সবজি হোক নাস্তা 


যেকোনো ফল বা সবজি ঘটা করে খেতে হবে এমন তো কথা নেই। শসা, গাজর, শাকপাতা, মটরশুটি ইত্যাদি স্ন্যাকস বা নাস্তাও হতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে আপেল, পেয়ারা, কমলা, মাল্টা ইত্যাদি ফলও। এগুলো কেটে বিকালের নাস্তা হিসেবে খাওয়ানো যেতেই পারে।


স্মুদির সঙ্গে সবজি


ফল কিংবা ফলের শরবত খেতে শিশুরা আগ্রহী না হলেও ‘স্মুদি’ আবার তাদের কাছে মুখরোচক ব্যাপার। বিভিন্ন ফল একসঙ্গে মিশিয়ে ঘরে বসেই ব্লেন্ডারে সহজেই স্মুদি বানিয়ে ফেলতে পারেন। এরসঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারেন পালংশাক, বাঁধাকপি, পেঁপে, শসা, গাজর ইত্যাদি কাঁচা খাওয়া যায় এমন যেকোনো সবজি। ফলের স্বাদের মাঝে শিশুরা সবজির স্বাদ আলাদা করতে পারবেনা, সবজি খাওয়াও হয়ে যাবে।


সালাদ


খাদ্যতালিকায় শাক-সবজি অন্তর্ভুক্ত করার সবচেয়ে সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায় হলো সালাদ। শসা, টমেটো, পেঁয়াজ, গাজর, বাঁধাকপির মতো সবজি এবং অঙ্কুরিত ফল দিয়ে লবণ ও চাট মশলা দিয়ে সালাদ তৈরি করে খাওয়ান। এটি খেতে খুবই সুস্বাদু, বাচ্চারাও মজা করে খাবে।


ছোট পরামর্শ  


যেসব বাচ্চারা একটু বেছে খায়, তাদের নিয়ে বেশি চিন্তা করবেন না। সময়ের সঙ্গে তারা নতুন খাবারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।


সবজি খাওয়ানোকে চাপ মনে করবেন না। মজাদার পদ্ধতি ও ছোট কাজ দিয়ে শিশুদের আগ্রহ তৈরি করুন। রোস্ট করা, সুপ, নুডল বা মাশ করা; সবই কাজ করে। ধীরে ধীরে বাচ্চআরা নতুন স্বাদে অভ্যস্ত হবে এবং স্বাস্থ্যকর সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩৩ এএম

অনেকেই সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে বা ওজন কমাতে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করতে পছন্দ করেন। তবে একটি প্রশ্ন প্রায়ই বিতর্কের সৃষ্টি করে, ‘খালি পেটে ব্যায়াম করা কি আদৌ নিরাপদ?’ 


বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর সবার জন্য এক নয়। খালি পেটে ব্যায়াম করার নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা নির্ভর করে ব্যায়ামের ধরন, ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা এবং লক্ষ্যের ওপর।


খালি পেটে ব্যায়াম করলে শরীরে যা ঘটে


রাতভর না খেয়ে থাকার ফলে সকালে শরীরের গ্লাইকোজেনের ভান্ডার দিনের অন্য সময়ের তুলনায় কম থাকে। এই অবস্থায় ব্যায়াম করলে শরীর শক্তির জন্য মূলত সঞ্চিত চর্বি এবং শক্তির অন্যান্য উৎসের ওপর নির্ভর করে। 


যদিও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, খালি পেটে ব্যায়াম করলে শরীরে চর্বি পোড়ানোর হার বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদি ওজন কমানোর বিষয়টি নির্ভর করে সারা দিনের ক্যালরির ভারসাম্য এবং সঠিক পুষ্টির ওপর।


সুবিধাসমূহ


সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সকালের নাশতা খাওয়ার আগে হালকা থেকে মাঝারি মানের ব্যায়াম বেশ কিছু সুবিধা দিতে পারে:


  • এটি সময়ের সাশ্রয় করে এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়তে সাহায্য করে।
  • ব্যায়ামের সময় চর্বি পোড়ানোর হার বৃদ্ধি পায়।


কিছু ক্ষেত্রে এটি ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে সাহায্য করে। হাঁটা, হালকা দৌড়, সাইক্লিং বা ইয়োগার মতো ব্যায়ামগুলো সাধারণত 

খালি পেটে করা নিরাপদ।


সতর্কতা ও ঝুঁকি


সবার জন্য খালি পেটে ব্যায়াম করা আদর্শ নয়। কিছু ক্ষেত্রে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, যেমন:


  • শরীরে শক্তির অভাব এবং দ্রুত ক্লান্তি অনুভব করা।
  • মাথা ঘোরা বা চোখে অন্ধকার দেখা।
  • ব্যায়ামের স্বাভাবিক গতি বা তীব্রতা বজায় রাখতে সমস্যা হওয়া।
  • বিশেষ করে যারা উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম, শক্তি বৃদ্ধিকারী প্রশিক্ষণ বা দীর্ঘ পথ দৌড়ান, তাদের জন্য ব্যায়ামের আগে পর্যাপ্ত জ্বালানি বা খাবার গ্রহণ করা জরুরি।


যাদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ


কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থা থাকলে খালি পেটে ব্যায়াম করা এড়িয়ে চলা উচিত অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:


  • ডায়াবেটিস রোগী এবং যাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ কম হওয়ার প্রবণতা আছে।
  • অন্তঃসত্ত্বা নারী।
  • বয়স্ক ব্যক্তি যাদের শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে।
  • অসুস্থতা থেকে সেরে উঠছেন এমন ব্যক্তি।


শরীরের সংকেত বুঝুন


যদি ব্যায়ামের সময় আপনি নিচের লক্ষণগুলো অনুভব করেন, তবে বুঝবেন আপনার শরীরে খাবারের প্রয়োজন রয়েছে:


  • গা হাত-পা কাঁপা বা দুর্বলতা।
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি বা বমি বমি ভাব।
  • মাথাব্যথা বা মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া।


এমন পরিস্থিতিতে ব্যায়ামের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে কলা, ওটস, দই বা একটি স্মুদির মতো সহজে হজমযোগ্য হালকা খাবার খাওয়া যেতে পারে।


পানির গুরুত্ব


আপনি ব্যায়ামের আগে খাবার খান বা না খান, শরীরকে আর্দ্র রাখা অপরিহার্য। দীর্ঘ সময় ঘুমের পর শরীর এমনিতেই কিছুটা পানিশূন্য থাকে। তাই ব্যায়ামের আগে এবং ব্যায়াম চলাকালীন পানি পান করলে শরীরের কর্মক্ষমতা বজায় থাকে এবং গরমে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমে।


শেষকথা


আপনার শরীরের ভাষা বুঝুন এবং নিজের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি রুটিন বেছে নিন। তবে যে কোনো বড় পরিবর্তন আনার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সর্বদা শ্রেয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৪৯ এএম

‘ছেলেটা একেবারে মায়ের মতো’ কিংবা ‘মেয়েটা মায়ের স্বভাব পেয়েছে’—এ ধরনের কথা আমাদের সমাজে প্রায়ই শোনা যায়। এর অনেকটাই অবশ্য পারিবারিক পর্যবেক্ষণ। তবে আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, কিছু বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে এ ধারণার বাস্তব ভিত্তিও রয়েছে। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জিন সন্তানের শরীর, মস্তিষ্ক এবং কিছু স্বাস্থ্যগত বৈশিষ্ট্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


চলুন তাহলে জেনে নিই, মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আসে:


১. মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ


কোষের শক্তিকেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়া শুধু মায়ের কাছ থেকেই আসে। এটি শিশুর শরীরের শক্তি উৎপাদন, বিপাকক্রিয়া এবং বার্ধক্যের গতিতে প্রভাব ফেলে।


২. বুদ্ধিমত্তা


গবেষণায় দেখা গেছে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিনের ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা থাকতে পারে। ফলে মায়ের শিক্ষার অভ্যাস, চিন্তাভাবনার ধরন ও জিনগত বৈশিষ্ট্য শিশুর মানসিক বিকাশে সাহায্য করতে পারে।


৩. শারীরিক বৈশিষ্ট্য


চুলের রং ও গঠন, হেয়ারলাইন, ত্বকের রং এবং ভ্যারিকোজ ভেইনের প্রবণতা; এসব শিশুর মধ্যে প্রাথমিকভাবে মায়ের দিক থেকে আসে। ভ্যারিকোজ ভেইন হলো এমন এক অবস্থা, যেখানে শিরাগুলো ফুলে যায় বা বাঁকানো দেখা যায়, সাধারণত ত্বকের ওপর নীল বা বেগুনি দাগের মতো প্রকাশ পায়।


৪. বিপাকক্রিয়া ও ওজন


শরীরের শক্তি ব্যবহারের ধরন এবং সহজে ওজন বাড়ার প্রবণতা; এসবে মায়ের জিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুর বিপাক ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিনের প্রভাব চোখে পড়ে।


৫. মেজাজ ও ঘুমের ধরন


অনিদ্রা, ঘুমের সমস্যা বা কিছু মুড-সম্পর্কিত প্রবণতা, যেমন বিষণ্নতা—মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আসতে পারে। এর মাধ্যমে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও আচরণে প্রভাব পড়ে।


৬. কিছু রোগের ঝুঁকি


মায়োপিয়া (কাছের জিনিস স্পষ্ট ও দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা), গ্লুকোমা, ছানি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মায়ের দিক থেকে আসতে পারে। ফলে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং প্রাথমিক নজরদারি শিশুর জন্য জরুরি।


৭. X-লিংকড বৈশিষ্ট্য (বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে)


ছেলেসন্তান মায়ের কাছ থেকে একমাত্র X ক্রোমোজোম পায়। তাই বর্ণান্ধের মতো বৈশিষ্ট্য সরাসরি মায়ের দিক থেকে আসার সম্ভাবনা বেশি।


৮. প্রজনন (মেয়েদের ক্ষেত্রে)


মেয়েদের প্রথম মাসিক ও মেনোপজের সময় অনেক ক্ষেত্রে মায়ের সময়সূচির সঙ্গে মিল দেখা যায়। অর্থাৎ মেয়েদের প্রজনন সংক্রান্ত কিছু বৈশিষ্ট্যও মায়ের জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত।


শেষ কথা


মনে রাখতে হবে, সব শিশুর ক্ষেত্রে এসব ভূমিকা এক রকম নয়। জিনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ এবং জীবনধারার প্রভাব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই মা ও সন্তানের সম্পর্ক শুধুমাত্র জেনেটিক নয়, বরং প্রতিদিনের যত্ন, পরিচর্যা ও অভ্যাসের মিশ্রণে শিশুর ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:১২ পিএম

বয়স বাড়া, মানসিক চাপ, অপুষ্টি, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা অতিরিক্ত রাসায়নিক প্রসাধনী ব্যবহারে ধীরে ধীরে চুল হতে পারে পাতলা।


বিশেষজ্ঞরা বলেন, চুল রাতারাতি ঘন করার তেমন কোনো নির্ভরযোগ্য উপায় নেই। তবে কিছু অভ্যাস চুলের গোড়া মজবুত, ভাঙা কমাতে এবং সময়ের সঙ্গে চুলকে আরও ঘন দেখাতে সহায়ক।


সুষম খাদ্য গুরুত্ব দেওয়া


বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপ-বিশারদ শারমিন কচি, চুলের সুস্থতার জন্য প্রথমেই পুষ্টির ওপর গুরত্ব দেন।


তিনি বলেন, “পর্যাপ্ত প্রোটিন, লোহা বা আয়রন, বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি থাকলে চুল পড়া, ভেঙে যাওয়া কিংবা পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।”


নানান পুষ্টির ঘাটতির কারণে চুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়ার সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও, জানান তিনি।


তার কথায়, “চিকিৎসক প্রয়োজনে আয়রনের মাত্রা, ভিটামিন ডি, থাইরয়েডের কার্যকারিতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় পরীক্ষা করে দেখেন, যাতে চুল পাতলা হওয়ার ভেতরের কারণ শনাক্ত করা যায়।”


নিয়মিত মাথার ত্বকে মালিশ


স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বকে হালকা মালিশ শুধু আরামই দেয় না, এটি চুলের জন্যও উপকারী হতে পারে। মাথার ত্বকে মালিশ করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে। এতে চুলের গোড়া পুষ্টি পায় এবং নতুন চুলের বৃদ্ধিতে উপকার হতে পারে।


তিনি পরামর্শ দেন, “শ্যাম্পু করার সময় অথবা গোসলের আগে আঙুলের ডগা দিয়ে ধীরে ধীরে গোলাকারভাবে মাথার ত্বকে মালিশ করা যেতে পারে। চাইলে এ জন্য বিশেষ মালিশের সামগ্রীও ব্যবহার করা যায়।”


সূর্যের তীব্র আলো থেকে চুল রক্ষা


সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শুধু ত্বকেরই নয়, চুলেরও ক্ষতি করতে পারে। অতিবেগুনি রশ্মির কারণে চুলের গঠন দুর্বল হয়ে যায়। এতে চুল ভেঙে যেতে পারে, রং ফিকে হয়ে যায় এবং চুল পাতলা দেখায়।


এই রূপ-বিশারদের পরামর্শ, “দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে টুপি, ওড়না বা চুল ঢেকে রাখার ব্যবস্থা ব্যবহার করা উচিত। এতে চুল ও মাথার ত্বক সরাসরি রোদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষিত থাকে।”


মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা


অতিরিক্ত মানসিক চাপ শুধু মনের ওপর নয়, চুলের ওপরও প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন মানসিক চাপ থাকলে শরীরে কর্টিসল নামের হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই মানসিক চাপের কারণ চিহ্নিত করে, কমানোর চেষ্টা করলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ফিরে আসতে সহায়তা করে।


অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার কমান


চুল সোজা করা, কোঁকড়ানো বা শুকানোর জন্য অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার করলে চুলের ক্ষতি হতে পারে। অতিরিক্ত তাপ চুলের ভেতরের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। এতে চুলের গঠন দুর্বল হয়ে যায়, সহজে ভেঙে যায় এবং সময়ের সঙ্গে পাতলা দেখাতে শুরু করে।


মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা


চুলের যত্ন বলতে শুধু চুলের ডগার যত্ন বোঝায় না। মাথার ত্বকের সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে নতুন চুলের বৃদ্ধি হতে সমস্যা হয়। তাই এমনভাবে পরিচর্যা করা উচিত, যাতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকে।


অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা, অতিরিক্ত শক্তিশালী পরিষ্কারক উপাদানযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার, বারবার ‘ড্রাই শ্যাম্পু’ ব্যবহার বা খুব গরম বাতাস দিয়ে চুল শুকানো মাথার ত্বককে শুষ্ক করে দিতে পারে।


চুল আঁচড়ানোর সময় সতর্কতা


চুল আঁচড়ানো সাধারণ অভ্যাস হলেও, ভুলভাবে আঁচড়ালে চুল ভেঙে যেতে পারে। বড় ফাঁকযুক্ত চিরুনি বা নরম ব্রাশ ব্যবহার করলে চুলের ওপর চাপ কম পড়ে। খুব জোরে বা টান দিয়ে আঁচড়ানো উচিত নয়। ভেজা অবস্থায় চুল বেশি দুর্বল থাকে। তাই সম্ভব হলে চুল কিছুটা শুকিয়ে যাওয়ার পর আঁচড়ানো ভালো। এতে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।


পুষ্টিকর পরিচর্যার ব্যবহার


শারমিন কচির মতে, “নিয়মিত পুষ্টিকর পরিচর্যা চুলের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে আর চুল ঘন দেখায়। শিয়া বাটার, আর্গান তেলে বা প্রাকৃতিক কেরাটিনের মতো উপাদান চুল ঘন করতে ভালো কাজ করে।”


এছাড়া সপ্তাহে একবার প্রাকৃতিক পুষ্টিদায়ক পরিচর্যা ব্যবহার করলে চুলের মাঝের অংশ ও ডগা বা নিচের অংশ আর্দ্র থাকে এবং ভেঙে যাওয়ার প্রবণতাও কমে।

বিষয় : চুল

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫৮ এএম
  • আপডেট : রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫৮ এএম

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল নাগাদ বিশ্বে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ। স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, চিন্তাভাবনা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটাই এই রোগের প্রধান লক্ষণ। 


তবে আশার কথা হলো, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রায় অর্ধেক (৪৫ শতাংশ) ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।


ল্যানসেট কমিশনের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪টি পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকির কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে যা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞ নিউরোসায়েন্টিস্ট লরা বোজারস্কাইটের মতে, এই কারণগুলো মূলত আমাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত এবং সচেতন হলে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।


ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায় যে ১৪টি কারণ


১. শিক্ষার অভাব: জীবনের শুরুর দিকে শিক্ষার অভাব মস্তিষ্কের প্রতিরোধ ক্ষমতা বা 'কগনিটিভ রিজার্ভ' কমিয়ে দেয়। আজীবন শেখার মানসিকতা মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে।


২. শ্রবণশক্তি হ্রাস: মধ্য বয়সে শ্রবণশক্তি কমে গেলে মস্তিষ্কের ওপর চাপ বাড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ কমে যায়, যা মস্তিষ্কের অবক্ষয় ত্বরান্বিত করে। শ্রবণযন্ত্রের ব্যবহার এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।


৩. উচ্চ কোলেস্টেরল: রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে তা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনে বাধা দেয়, যা ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া এবং আলঝেইমার্সের ঝুঁকি বাড়ায়।


৪. বিষণ্নতা: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, বিষণ্নতা এবং ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস অংশে পরিবর্তন আনে। তাই বিষণ্নতার দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।


৫. মাথায় আঘাত: গুরুতর মাথায় আঘাতের ফলে মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি নিউরোডিজেনারেটিভ রোগের কারণ হতে পারে।


৬. উচ্চ রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপ রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমিয়ে দেয়। লবন কম খাওয়া, ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি [৯]।


৭. শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: ব্যায়াম মস্তিষ্কের জন্য অন্যতম শক্তিশালী ওষুধ। শারীরিক পরিশ্রম মস্তিষ্কের কোষের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।


৮. ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকলে তা রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা কগনিটিভ ডিক্লাইন বা চিন্তাশক্তি হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত।


৯. ধূমপান: ধূমপানের ফলে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহ বাড়ে, যা মস্তিষ্কের বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে। ধূমপান ত্যাগ করলে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব ।


১০. স্থূলতা: অতিরিক্ত ওজন মেটাবলিক সমস্যা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, যা পরোক্ষভাবে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।


১১. অতিরিক্ত মদ্যপান: অতিরিক্ত অ্যালকোহল সরাসরি নিউরন বা মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করে এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।


১২. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: একাকীত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগ না থাকা মস্তিষ্ককে স্থবির করে দেয়, ফলে দ্রুত স্মৃতিশক্তি কমতে থাকে।


১৩. দৃষ্টিশক্তি হ্রাস: যদি দৃষ্টিশক্তির সমস্যা অবহেলিত থাকে, তবে তা মানুষকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং মস্তিষ্কের উদ্দীপনা কমিয়ে দেয়।


১৪. বায়ুদূষণ: ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং ক্ষতিকারক প্রোটিন জমা হতে সাহায্য করে, যা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।


বিশেষজ্ঞের পরামর্শ


লরা বোজারস্কাইট জানান, এই কারণগুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। যেমন—শ্রবণশক্তি কমে গেলে মানুষ বিষণ্নতায় ভোগে এবং সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেয়, যা ঝুঁকি আরও বাড়ায়। তবে আমাদের মস্তিষ্ক সারা জীবনই পরিবর্তনশীল বা ‘প্লাস্টিক’ থাকে। তাই জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তন এনে আমরা এই ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারি এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারি।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ এএম
  • আপডেট : শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ এএম

বর্ষায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় জীবাণুর উপদ্রবও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে এ সময় ত্বকে ছত্রাক বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের প্রকোপ বহুগুণ বেড়ে যায়।


বর্ষায় ছত্রাক সংক্রমণের কারণ


বর্ষাকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য থাকে এবং প্রায়ই বৃষ্টিতে ভেজার কারণে শরীর ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে থাকে। অতিরিক্ত ঘাম এবং দীর্ঘক্ষণ ভেজা কাপড় বা জুতা পরে থাকার ফলে শরীরের ভাঁজযুক্ত অংশগুলোয় (যেমন আঙুলের ফাঁকে, বগল বা কুঁচকিতে) ছত্রাক সহজেই বংশ বৃদ্ধি করে।


সাধারণ কিছু সংক্রমণ ও লক্ষণ


অ্যাথলেটস ফুট: দীর্ঘক্ষণ ভেজা জুতা-মোজা পরে থাকলে পায়ের আঙুলের ফাঁকে চুলকানি, লালচে ভাব ও চামড়া উঠে যাওয়ার মতো সমস্যা হয়।


দাউদ বা রিংওয়ার্ম: শরীরের যেকোনো স্থানে গোলাকার চাকার মতো লালচে দাগ দেখা যায়, যাতে তীব্র চুলকানি হয় এবং চারপাশটা সামান্য ফুলে ওঠে।


ছুলি বা টিনিয়া ভার্সিকলার: সাধারণত পিঠ, বুক বা ঘাড়ে সাদা, বাদামি বা কালচে ছোপ ছোপ দাগ দেখা দেয়।


সংক্রমণ থেকে বাঁচার উপায়


ছত্রাক সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে হলে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুব জরুরি।


শরীর শুকনা রাখা: বৃষ্টিতে ভিজলে দ্রুত গোসল করে শরীর ভালোভাবে তোয়ালে দিয়ে মুছে শুকিয়ে নিতে হবে। সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা এ সময় সবচেয়ে নিরাপদ।


জুতা-মোজা ব্যবহারে সতর্কতা: ভেজা জুতা-মোজা একেবারেই পরা যাবে না। বাইরে থেকে ফিরলে পা সাবান দিয়ে ধুয়ে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে।


ব্যক্তিগত জিনিস আলাদা রাখা: আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, চিরুনি বা পোশাক অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না; কারণ, ছত্রাক সহজেই ছড়ায়।


এ ছাড়া পরিবেশকে ছত্রাকমুক্ত রাখতে ঘরবাড়ি শুকনা ও পরিষ্কার রাখুন। প্রতিদিন জানালা খুলে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন, যেন আর্দ্রতা কমে। রান্নাঘর ও বাথরুমে এগজোস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন। কার্পেট ও ম্যাট শুকনা রাখতে হবে। এয়ার কন্ডিশনার ও ফ্যানের ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। দেয়াল বা ঘরের কোণ স্যাঁতসেঁতে হলে বা ছত্রাক জমলে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে দ্রুত পরিষ্কার করুন এবং পাইপে পানির লিক থাকলে তা দ্রুত মেরামত করুন।


আক্রান্ত হলে করণীয়


ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ দেখা দিলে আক্রান্ত স্থানটি সব সময় পরিষ্কার ও শুকনা রাখতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডার বা সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চুলকানি তীব্র হলে বা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে নিজে নিজে কোনো স্টেরয়েডযুক্ত মলম ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম বা ওষুধ গ্রহণ করা উচিত।


বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি সামান্য সচেতনতাই আমাদের বিরক্তিকর ছত্রাকের সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে পারে।

বিষয় : ছত্রাক

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


আমলকি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

খাদ্যতালিকায় সহজেই পাওয়া যায়, কিন্তু পুষ্টিগুণে অনন্য একটি ফল হলো আমলকি। ছোট এই ফলটি শুধু স্বাদের জন্যই নয়, বরং শরীর সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আয়ুর্বেদ, ইউনানি ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে দীর্ঘদিন ধরেই আমলকির গুরুত্বের কথা বলা হচ্ছে।


কাঁচা, শুকনো, আচার কিংবা রস- বিভিন্নভাবে আমলকি খাওয়া যায়। যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হজমশক্তি ভালো রাখতে, ত্বক ও চুলের যত্নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এ কারণে দেশ-বিদেশে সুপারফুড হিসেবে পরিচিত এই ফলটির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ‘সি’-এর অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে আমলকির কদর বেশি।


পুষ্টিবিদরা জানান, আমলকির অন্যতম বিশেষত্ব হলো এটি কাঁচা অবস্থায় যেমন উপকারী, তেমনি প্রক্রিয়াজাত করার পরও এর অনেক পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। আমলকিতে থাকা ভিটামিন সি তাপ সহনশীল হওয়ায় শুকানো বা রান্নার পরও এর কার্যকারিতা অনেকটাই বজায় থাকে।


পুষ্টিবিদদের মতে, আমলকিতে রয়েছে পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ট্যানিনের মতো উপকারী উপাদান। এগুলো শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 


গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আমলকি খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে, হজমশক্তি উন্নত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণ আমলকি রাখলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়তা করে এবং সুস্থ জীবনযাপনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। 

সর্বশেষ সব খবর