ঢাকায় মশার উপদ্রব শুধু বেড়েই চলেছে
সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকায় মশার উপদ্রব শুধু বেড়েই চলেছে এমন নয়; বরং তা মারাত্মক মাত্রা ছুঁয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর মশার ৯০ শতাংশই কিউলেক্স। মার্চে মশার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
বাংলাদেশে সাধারণত তিন প্রজাতির মশার বিস্তার দেখা যায়- কিউলেক্স, এডিস ও অ্যানোফিলিস। এর মধ্যে কিউলেক্সের বিস্তারই বেশি। কিউলেক্সের কামড়ে ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ ও জাপানি এনসেফালাইটিস হয়।
তবে এ দুটি রোগ দেশে ততটা প্রকট নয়। এডিসের কামড়ে ডেঙ্গু ও অ্যানোফিলিসের কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়।
আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বিজ্ঞানী মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, জাপানি এনসেফালাইটিসে মৃত্যুর অনুমিত হার ২৫ শতাংশ। এ রোগে রাজশাহী, রংপুর ও পার্বত্য অঞ্চলে অতীতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে দেশে এ রোগ বেশি দেখা যায় না। কারণ, এখানে শূকরের পালন খুব বেশি মাত্রায় নেই।
গবেষকেরা বলছেন, তিন কারণে এবার মশার প্রকোপ বেড়েছে। প্রথমত, এবার শীতের মাত্রা কম আর স্বাভাবিকের চেয়ে একটু আগেই শীত বিদায় নিয়েছে। আবার এ বছর মশার প্রকোপ আগেই শুরু হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। তৃতীয়ত, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধির অভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এগোচ্ছে না।
গবেষণায় যে সতর্কবার্তা
কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার ২৬ বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মশা নিয়ে গবেষণা করছেন। সর্বশেষ জরিপে তাঁর দল দুই ভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে- মশার লার্ভা বা শূককীটের ঘনত্ব ও প্রাপ্তবয়স্ক মশার উপস্থিতি গণনা করে।
লার্ভা পরীক্ষা করতে বিভিন্ন জলাশয় থেকে ২৫০ মিলিলিটার পানি তুলে তাতে লার্ভার সংখ্যা গণনা করা হয়। জানুয়ারিতে ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় সংগৃহীত পানিতে গড়ে ৮৫০টি লার্ভা পাওয়া যায়। ফেব্রুয়ারিতে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় গড়ে ১ হাজার ২৫০-এ।
প্রাপ্তবয়স্ক মশার উপস্থিতি যাচাইয়ের পদ্ধতিটিও চমকে দেওয়ার মতো। একজন মানুষের হাঁটু পর্যন্ত পা ও বাহু উন্মুক্ত রেখে এক ঘণ্টায় কতটি মশা কামড়াতে আসে, তা গণনা করা হয়। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে গড়ে ৮৫০।
অধ্যাপক বাশারের আশঙ্কা, মার্চে এ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, এক ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই বিশ্বমানে তা বেশি। সেখানে ঢাকায় ৮৫০টি, এটি কেবল সংখ্যা নয়, এটি একটি বিপৎসংকেত।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) পাঁচ এলাকায় মশা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এখানে মশা বেড়ে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টানা মশার ফাঁদ রেখে এ গবেষণা করা হয়। গত ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি রাজধানীর পাঁচটি এলাকায় ১৭ হাজার ১৫৯টি মশা পাওয়া যায়।
আর ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া যায় ২২ হাজার ৩৬২টি। ওই পাঁচ এলাকা হলো উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের পার্ক, মিরপুর ২ -এ ডিএনসিসির ভান্ডার শাখা অফিস, গুলশান ১-এর পুরাতন ভান্ডার শাখা অফিস, মিরপুর ১-এর ১০ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার ও মোহাম্মদপুরের ডিএনসিসির আঞ্চলিক অফিস।
কোথায় বেশি, কোথায় কম
ঢাকা ও আশপাশ এলাকায় কবিরুল বাশার ও তাঁর দলের করা গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর সর্বত্র সমানভাবে মশা নেই। কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া, শ্যামপুর, রায়েরবাজার, উত্তরা ও রাজধানী-সংলগ্ন সাভার এলাকায় লার্ভা ও প্রাপ্তবয়স্ক মশার ঘনত্ব বেশি। অন্যদিকে শাহবাগ ও পরীবাগের মতো মধ্য রাজধানী এলাকায় তুলনামূলক কম পাওয়া গেছে।
রাজধানীর নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সুমনা হক বলেন, বারান্দায় দাঁড়ানো যায় না। বিকেল হলেই মশার আক্রমণ শুরু হয়। কলাবাগানে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বলেন, ‘পড়ার টেবিলে বসতে গেলেই মশা ঘিরে ধরে। অ্যারোসল ছিটালে কিছুক্ষণ কমে, তারপর আবার আগের মতো।
কেন বাড়ছে কিউলেক্স
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া ও দূষণ- দুটোই কিউলেক্স বৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক জি এম সাইফুর রহমান বলেন, অতীতে মার্চের মাঝামাঝি থেকে কিউলেক্সের উপদ্রব বাড়লেও এ বছর তা ফেব্রুয়ারি থেকেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী কালবৈশাখের আগমন পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।
সাইফুর রহমান বলেন, চলতি বছর শীতকালের ব্যাপ্তি কম ছিল এবং গরম তাড়াতাড়ি শুরু হয়েছে। কিউলেক্স সাধারণত আগস্ট থেকে বংশবিস্তার শুরু করে। শীতে তাপমাত্রা কমে গেলে মশার শরীরে হরমোন ও এনজাইমের কার্যকারিতা কমে যায়, ফলে মশার লার্ভা বৃদ্ধি যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি স্ত্রী মশার রক্তপানের আগ্রহও কমে যায়।
কিন্তু তাপমাত্রা বাড়লে এই প্রক্রিয়া উল্টো হয়, অর্থাৎ দ্রত জীবন চক্র সম্পন্ন করে এবং স্ত্রী মশার রক্তপানের চাহিদা বাড়ে। ঘনঘন ও বেশি পরিমাণে ডিম উৎপাদনে প্রয়োজনীয় বাড়তি প্রোটিন রক্তপান থেকে সঞ্চয় করে। ডিম দেওয়ার এ বাড়তি ক্ষমতা মশার দ্রুত বংশবিস্তার নিয়ামক ভূমিকা পালন করে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন শূন্য দশমিক ৪ ডিগ্রি ও গড় তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিই কিউলেক্সের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। তাপমাত্রার পাশাপাশি দূষণও বড় কারণ। আবর্জনা, বদ্ধ জলাশয় ও নর্দমা কিউলেক্সের প্রধান প্রজননক্ষেত্র।
ব্যবস্থাপনার সমস্যা
ডিএনসিসি এলাকায় প্রায় আট হাজার বিঘা জলাশয় রয়েছে। এসব জলাশয়ের বড় অংশ মশার উৎপত্তিস্থল। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, একবার পরিষ্কার করলে দ্রুতই আবার আবর্জনায় ভরে যায়। জলাশয় ব্যবস্থাপনা সত্যিই খুব জটিল। তাঁর মতে, অনেক এলাকায় খোলা নর্দমা, স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকার ফলে কিউলেক্সের বংশবিস্তার রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধি না থাকায় মশা নিধনের ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো হচ্ছে না বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। অনেক জলাশয়ে মাছের চাষ হয়। সেখানে সিটি করপোরেশনকে কাজ করতে দেওয়া হয় না। এমন সমস্যাও রয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, জনপ্রতিনিধিরা এলাকার লোকজনকে মোটামুটি চেনেন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাঁরা লোকজনকে বোঝাতে পারেন। সরকারি কর্মকর্তাদের চেষ্টার ত্রুটি না থাকলেও সব ক্ষেত্রে তাঁরা জনগণকে বোঝাতে সক্ষম হন না।
ছবি : সংগৃহীত
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হলো। গত বছরের ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে আছড়ে পড়ে প্রশিক্ষণ বিমান এফ-৭ বিজিআই। যা ভবনের ভেতরে ঢুকে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিনজন শিক্ষিকা, তিনজন অভিভাবক এবং একজন পরিচালকসহ মারা যান ৩৫ জন। এছাড়া ১৭২ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন।
বছর শেষ হলেও এখনো মুছে যায়নি সেই ভয়াবহ ও বিভীষিকাময় স্মৃতি। কালো এ দিনটির কথা ভুলতে পারেননি স্বজনহারা পরিবার, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ দেশের জনগণ।
ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২০ জুলাই) মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহপাঠীদের ভালোবাসা ও আবেগে দিনটি পালন করেন মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
মাইলস্টোন স্কুলের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে নিহত ও আহতদের স্মরণে আমরা দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছি। প্রথম দিনে স্কুলের ১৬টি শাখায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে আহত শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাস ছাড়া মাইলস্টোনের অন্যান্য শাখায় সাধারণ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে থাকছে দুটি প্রধান আয়োজন।
বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরাম (বিপিজেএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহাবুব আলম বাবুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিক মাহাবুব আলম বাবুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বিপিজেএফ ঢাকা মহানগর শাখার প্রধান সমন্বয়ক মো. হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. রোমান আকন্দের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান।
প্রধান বক্তা ছিলেন বিপিজেএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী শরিফুল ইসলাম (শাকিল)। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিজ মাহবুব, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের কেন্দ্রীয় নেতা মাজহারুল হক, দৈনিক প্রতিদিন খবরের সম্পাদক সরকার জামাল।
এসময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। বক্তারা বলেন, মাহাবুব আলম বাবু দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি শুধু একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে জানানো হয়, দৈনিক আজকের দুর্নীতি পত্রিকার মুন্সীগঞ্জ জেলা ব্যুরো প্রধান মাহাবুব আলম বাবু মামলার পর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত মামলা প্রত্যাহার না হলে সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরাম (বিপিজেএফ) পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় ডুবেছে একটি ট্রলার। ট্রলারের অধিকাংশ যাত্রীকে উদ্ধার করা গেলেও দুই যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বরিশাল থেকে আসা এমভি সুন্দরবন-১২ লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে ট্রলারে থাকা ১০ যাত্রীর মধ্যে ৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তবে দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
ট্রলারটি যাত্রী নিয়ে কুমিল্লা জেলার কোনো স্থানে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে সদরঘাট নদী ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট অভিযান চালাচ্ছে।
রাজধানীর উত্তরার জসিমউদ্দীন এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক প্রাণের বাংলাদেশ-এর সাংবাদিক রবিউল আলম রাজু এবং সংবাদ দিগন্ত-এর সাংবাদিক সাকিবুল হাসান-এর মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (এসইউজে)।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে সংগঠনের সভাপতি ও দৈনিক হুংকার-এর নির্বাহী সম্পাদক এম. হারুন অর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক দিনকাল-এর শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মো. আল-আমিন শাওন এক যৌথ শোকবার্তায় এ শোক প্রকাশ করেন।
শোকবার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, "সাংবাদিক রবিউল আলম রাজু ও সাকিবুল হাসানের অকাল মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, সততা ও সাহসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তাঁদের এই অকাল প্রয়াণে সাংবাদিক সমাজ হারাল দুই নিবেদিতপ্রাণ সহযোদ্ধাকে। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই গভীর শোক সইবার শক্তি দান করুন।"
শোকবার্তায় আরও বলা হয়, সাংবাদিকতা পেশায় মরহুম দুই সাংবাদিকের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের মৃত্যু দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁদের আদর্শ, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের অনুপ্রাণিত করবে।
জানা গেছে, বুধবার দিবাগত গভীর রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফেরার পথে উত্তরার জসিমউদ্দীন এলাকায় একটি বাসের ধাক্কায় তাঁরা গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (এসইউজে) মরহুম দুই সাংবাদিকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। সংগঠনটি একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
রাজধানীর পুরান ঢাকায় ভুক্তভুগীর বাসভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের দাবি, জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রকৃত দাবিদারদের বঞ্চিত করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কেরানীগঞ্জের আফতাব উদ্দিনের মেয়ে আমিনা খাতুনসহ ওয়ারিশরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় অ্যাডভোকেট আব্দুল আওয়াল সুমন বলেন, অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত দাবিদারদের পরিবর্তে হারুন ও ইব্রাহিম নামের দুই ব্যক্তি ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এ ঘটনায় আদালতে রিট ও দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তারা আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও তারা কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি। এ কারণেই বিষয়টি জনসম্মুখে তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারিক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।।
সংগৃহীত ছবি
তিন দফা দাবিতে রাজধানীর উত্তরা, সায়েন্সল্যাব, মিরপুর-১০ ও ইসিবি চত্বরে সড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তবে সায়েন্সল্যাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে সচিবালয়ের দিকে লংমার্চ শুরু করেছেন। এই অবরোধের কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিনদফা দাবিতে গতকাল মঙ্গবার দিনভর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার আবারও তারা উত্তরায় বিএনএস সেন্টারের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, মিরপুর-১০ গোলচত্বর এবং ইসিবি চত্বরে সড়ক অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন।
বেলা ৩টার দিকে সায়েন্সল্যাবে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে সচিবালয়ের দিকে লংমার্চ শুরু করেন। মিছিলের সামনে ও পাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা সরে গেলে সায়েন্সল্যাব, মিরপুর রোড, এলিফ্যান্ট রোড ও শাহবাগমুখী সড়কে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে শিক্ষা ভবনের সামনে ব্যারিকেড দিয়েছে পুলিশ। সেখানে পুলিশের কয়েকশ সদস্য অবস্থান নিয়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার সুযোগ এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে পদত্যাগ করতে হবে। আন্দোলনের সময় তারা এসব দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।